১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলের মধ্যে “ছয় দিনের যুদ্ধ” সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান হামলার নাম ছিল অপারেশন ফোকাস। এই অপারেশনে ব্যবহৃত বেশিরভাগ ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান গুলো ফ্রান্সের তৈরি। ইসরায়েলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। যার নাম অপারেশন চেঙ্গিস খান।তা নিয়ে পরবর্তীতে পোস্ট করা হবে।

অপারেশন প্রধানত তিন ধাপে বিভক্ত। আরব জোটের মোট ৪৫২ টি বিমান ধবংস হয়!!!??
যার বেশির ভাগ বিমান তখন বিমান ঘাঁটিতে ছিল। ফ্রান্স-ইসরায়েল যৌথ ভাবে তৈরি করে ‘এন্টি-রানওয়ে বোমা’। এ বোমার আঘাতে রানওয়েতে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয় যা সহজে সংস্কার করা যায় না। এ বোমার ব্যবহার ইসরায়েলকে ব্যাপক সাফল্য এনে দেয়।

ধ্বংসপ্রাপ্ত মিশরের মিগ-২১ দেখছেন ইসরাইলের অফিসারগণ

 

দিনটি ছিল জুন ৫, ১৯৬৭।মিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দূর্বল। এমনকি বিমান ঘাঁটি গুলোতে যুদ্ধ বিমানের নিরাপদ আশ্রয় পর্যন্ত ছিল না।সাধারণত পৃথিবীর সকল এয়ারফোর্স বেজ এ সেকেন্ডারী হ্যাঙ্গার থাকে।এগুলো সাধারণত বোম্বিং প্রুফ করে বানানো হয়।মানে এতে আশ্রয় নেয়া বিমানের ক্ষতি করতে হলে আপনাকে অতিমাত্রায় বোম্বিং করতে হবে।যুদ্ধকালীন সময়ে এ ধরনের হ্যাঙ্গার অপারেশনাল থাকে।
.
সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ১৮৩টি ইসরায়েলি বিমান মিসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ইসরায়েলি বিমানগুলো রাডারে ধরা পরে। বিমান বিধ্বংসী কামানের আওতায় থাকা সত্বেও কোন ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করতে পারেনি মিসর!!!

ভূমিতে থাকা অবস্থায় বোমার আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত মিশরীয় যুদ্ধবিমান

 

১১টি বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করে ইসরাইল। বেশির ভাগ মিসরীয় বিমান আকাশে ওড়ার আগেই ধ্বংস হয়। ইসরায়েলি জেট বিমানগুলো ইসরায়েলে ফিরে যায়। মাত্র ৭.৩০ মিনিটে অস্ত্র ও জ্বালানী নিয়ে মিসরে ফিরে আসে। দ্বিতীয় আক্রমণে মিসরের ১৪টি বিমান ঘাঁটি ধ্বংস হয়। অবশ্য কিছু ইসরায়েলি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
.
মিসরে হামলার প্রতিশোধ নিতে সিরিয়া, ইরাক ও জর্ডান ইসরায়েলে বিমান হামলা চালায়। বেসামরিক নাগরিকের উপর হামলা করার কারণে এ আক্রমণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়। তৃতীয় ধাপে ইসরায়েল সিরিয়া ও জর্ডানে বিমান হামলা করে। যুদ্ধের প্রথম দিন শেষে আকাশ পথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের কাছে চলে যায়।

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আক্রমনের নকশা!

 

পরেরদিন জুন ৬-১০, ১৯৬৭…..
দ্বিতীয় দিন, ইসরায়েল বিমান বাহিনী মিসর, সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের স্থলবাহিনীর উপর ব্যাপক আক্রমণ করে।
.
তৃতীয় দিন, ইসরায়েল শতাধিক মিসরীয় যুদ্ধযান ধ্বংস করে।
ষষ্ঠ ও শেষ দিন, সিরিয়ার প্রায় ১০০টি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস হয়।
.
.
★ক্ষয়ক্ষতির তালিকা★
অপারেশন ফোকাস সম্পর্কিত ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধ বিমান:
◆কমব্যাট এয়ারক্রাফট◆
148 Mikoyan-Gurevich MiG-21 ‘Fishbeds’ (104 from Egypt; 32 from Syria; 12 from Iraq)
.
29 Mikoyan-Gurevich MiG-19 ‘Farmers’ (all from Egypt)
.
112 Mikoyan-Gurevich MiG-17 ‘Frescos’ (94 from Egypt; 16 from Syria; two from Iraq)
.
14 Sukhoi Su-7 ‘Fitters’ (all from Egypt)
.
27 Hawker Hunters (21 from Jordan; five from Iraq; one from Lebanon)
.
◆বোম্বার এয়ারক্রাফট◆
31 Tupolev Tu-16 ‘Badgers’ (30 from Egypt; one from Iraq)
.
31 Ilyushin Il-28 ‘Beagles’ (27 from Egypt; two from Syria; two from Iraq)
.
◆ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট◆
32 Ilyushin Il-14 ‘Crates’ (30 from Egypt; two from Syria)
.
8 Antonov An-12 ‘Cubs’ (all from Egypt)
.
4 others (two Syrian C-27 medium transports; and two C-27’s from Egypt)
.
◆ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার◆
10 Mil Mi-6 ‘Hooks’ (eight from Egypt; two from Syria)
.
6 Mil Mi-4 ‘Hounds’ (two from Egypt; four from Syria)

ধ্বংসপ্রাপ্ত মিশরের মিগ-১৯ যুদ্ধবিমান

 

দেশ হিসেবে সর্বমোট এয়ারক্রাফট ক্ষয়ক্ষতি:
◆মিসরঃ ৩৩৮
◆সিরিয়াঃ ৬১
◆জর্ডানঃ ২৯
◆ইরাকঃ ২৩
◆লেবাননঃ ১
◆ইসরাইলঃ ১৯
এছাড়া ইসরায়লের ২৪ ও আরব জোটের শতাধিক পাইলট নিহত হন।

অপারেশন ফোকাসের সফলতার কারণে তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আরব জোট মাত্র ছয় দিনে পরাজিত হয়। চূড়ান্ত পরাজয় সত্বেও
১৯৭৩ সালে আবার ইসরায়েল আক্রমন করে সিরিয়া ও মিসর।

অপারেশন ফোকাসে ইসরাইলের মূল শক্তিই ছিল ফ্রান্সের তৈরি এই মিরেজ যুদ্ধবিমানগুলো

 

◆ডকুমেন্টারি সাজেশন◆
অপারেশন ফোকাস ও ৬ দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধের উপর ইউটিউব এ অনেক ভিডিও পাবেন।নাম ধরে সার্চ দিলেই হল।এর মধ্যে আমি কিছু ভিডিও সাজেস্ট করবো।এমবি থাকলে দেখে ফেলুন।
.
ছয় দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধের উপর নির্মিত ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট এর এই ডকুমেন্টারি টি দেখতে পারেন।অসংখ্য কমব্যাট ফুটেজ দিয়ে একেবারে মুভির মত সাজানো হয়েছে ভিডিও টি??
?লিংক: https://m.youtube.com/watch?v=pvisd4N3tZI
.
৪৮ মিনিট এর এই ডকুমেন্টারি টি দেখলাম ইউটিউব এ হিট খাইসে বেশি।আপনি চাইলে দেখতে পারেন…
?লিংক: https://m.youtube.com/watch?v=mxEXGA0RU5c
.
এমবি কম থাকলে ১৬ মিনিট এর এই শর্ট ডকুমেন্টারিটি দেখুন?
?লিংক: https://m.youtube.com/watch?v=APuaTu_uab4
.
তবে বিবিসি এর এই ডকুমেন্টারি টা সবচেয়ে বেস্ট।ইসরাইল এর সকল যুদ্ধ নিয়ে বানানো ভিডিও।মোটামুটি নিরপেক্ষ ছিল বিবিসি।অন্যদিকে ইসরাইল এর তৈরি ভিডিও গুলা তে তাদের মার খাওয়ার দৃশ্য বাদ দিয়েছে…??
?লিংক: https://m.youtube.com/watch?v=FQeAyyOQPuM
.
অপারেশন ফোকাস এর সময় রিয়েল টাইম কমব্যাট ফুটেজ(বিমান থেকে করা যুদ্ধের ভিডিও) নিয়ে বানানো শর্ট ডকুমেন্টারি:
.
?পার্ট ১: https://m.youtube.com/watch?v=7A0KGOEcTV0
.
?পার্ট ২: https://m.youtube.com/watch?v=gU1F1gdcJD4
.
#এম_আর_নাইন

Facebook Comments

2 Comments

Al Jaim Pappu · January 9, 2018 at 11:36 am

৪৫২ টা বিমান কেমনে ধ্বংস হয়। এরা কি

    masud rana · January 10, 2018 at 4:23 am

    চূড়ান্ত রকমের অসতর্ক ছিল মিশর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: