অপারেশন থান্ডারবোল্ট হলো সেই অপারেশন যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্পেশাল ফোর্স ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ও সোয়াডস কে প্রথম বারের মতো অ্যাকশনে দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছরের ও অধিক সময় পর আরেকবার জঙ্গি উত্থান ঘটছিল দেশে,যা নাড়া দেয় সারা বিশ্বকে।

১ লা জুলাই,২০১৬।

রাত আটটা।

রমজান মাস চলছে। আটটার সময়ে সবাই তারাবিহ এর জন্য বের হয়েছে। ঠিক এ সময় এ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় ঘটনার আরম্ভ হলো। ঢাকার অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা বলে পরিচিত গুলশান ২ এর হলি আর্টিজান রেস্তেরায় পাচ জন অস্ত্রধারী জঙ্গি ঢুকে পড়ে। তাদের মুল লক্ষ্য জিম্মি ছিল না,ছিল হত্যাযজ্ঞ চালানো। তাই তারা ভিতরে ঢুকেই আধাঘন্টার ভিতরে ২০ জনের মতো বিদেশীকে হত্যা করে। তাই ভিতরে আটকে পড়াদের বাচানো একপ্রকার অসম্ভব ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ছুটে যায়। কিন্তু ঘটনার ভয়বহতা পুলিশ বুঝে উঠতে পারে নি। তারা জানতেন না যে তিনি যতটা দূর্বল মনে করছেন ততটা দূর্বল নয়। পুলিশ সদস্যদের দিকে গ্রেনেড ছুড়ে মারতে লাগল জঙ্গিরা। স্প্রিন্টার হাত-পায়ে বিঁধে আহত হয়ে গেলেন বেশকয়েকজন পুলিশ সদস্য। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই বিস্মিত। সকলে বুঝে গেছে,এটা কোন যেনতেন ঘটনা নয়। এবার প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করল পুলিশ।

Image result for operation thunderbolt bangladesh night hD photoRelated image

জঙ্গিদের দাবী তিনটি।

১.তাদের এক নেতা সাইফুল্লাহ কে মুক্তি দিতে হবে।

২.তাদের নিরাপদে যেতে দিতে হবে।

৩.তাদের অভিযান কে স্বীকৃতি দিতে হবে।

পুলিশ ও RAB আরো সময় নেয়। যাতে জঙ্গিদের বুঝিয়ে জিম্মিদের বের করে আনা যায়। কারন অপারেশন চালাতে গেলে জিম্মিরাও মারা পড়তে পারে। কারন এটা সুইসাডাল অ্যাটাক, নিজেদের বাচানোর আগে জিম্মিদের মারার চেষ্টা করবে ওরা।

জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল, গ্যাস সিলিন্ডার এর সাথে গ্রেনেড লাগিয়ে ব্লাস্ট করে পুরো ভবন উড়িয়ে দিবে। কিন্তু বাইরের পুলিশ এর সাথে ক্রমাগত সমঝোতায় তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে,তারা সকালে জিম্মিদের ছেড়ে দিবে ও সম্মুখ যুদ্ধ করবে। এত বড় ঘটনায় আতঙ্কিত প্রশাসন। আর কোনও রিস্ক নিতে চায়না তারা। তাই সিদ্ধান্ত হল,সকলের আস্থার প্রতীক ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন সদস্যদের এই অপারেশনের গুরুভার দেওয়া হবে।

রাতে এ খবর প্যারা কমান্ডোদের আতুর ঘর জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এ পৌছালে সি-১৩০ এ করে অজানা সংখ্যক কমান্ডো ঢাকা এসে পৌছায়। হলি আর্টিজানের কাছেই লেক আছে,তাই জঙ্গিরা লেকের মাধ্যমে পালাবার চেস্টা করতে পারে। লেকে সোয়াডস মোতায়েন করা হয়। ডাইভিং ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়। পুরো গুলশান এলাকা পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী দ্বারা কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বেস্টনী দ্বারা ঘিরে রাখা হয়,যাতে কোনমতেই কেউ পালিয়ে না যেতে পারে।

Related image

সকালবেলা জঙ্গিরা জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে অপারেশন শুরু হয়ে যায়। সর্বপ্রথম এপিসি তীব্রবেগে হলি আর্টিজানে ঢুকে এর দেয়ালে আঘাত করে দেয়াল ভেঙে ফেলে। প্যারা কমান্ডোরা সতর্কভাবে এগিয়ে যায়। সর্বপ্রথমই একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারে ভবনের ভিতরে। ভিতর হতে র্টেবিল ও অন্যান্য জিনিসের পিছনে লুকিয়ে গুলি করে ব্যর্থ শেষ চেষ্টা করে জঙ্গিরা। গুলি করতে করতে এগিয়ে যায় কমান্ডোরা। ১২ মিনিটেই সকল জঙ্গির লাশ ফেলে দেয় কমান্ডোরা।

Related image

সারাবিশ্ব যেমন জঙ্গিদের এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কারনে ব্যথিত, তেমনি বাংলাদেশী কমান্ডোদের প্রশংসায় পঞ্চমুখব হয়ে উঠে। এভাবেই ১২ ঘন্টার এ দূর্যোগের অবসান ১২ মিনিটেই করেল আমাদের অকুতোভয় কমান্ডোরা।

Related image

 

Facebook Comments
%d bloggers like this: