পূর্বে তখন সজোরে বসন্তের হাওয়া বইছে
পশ্চিমা ঝড়ে একটি শক্তিশালী মুসলিম খেলাফত রাষ্ট্র টালমাটাল করছে।তবুও প্রতিনিয়ত কিছু মৌলিক ইসলামের অনুসারীরা খেলাফতকে আকড়ে ধরে বাচার চেষ্টা করছিল।ঠান্ডা মাথার ক্রুসেড প্রতিনিয়তই ঘটছিল দুর্নীতিগ্রস্থ পাশাগণ,কর্মকর্তাগণ নিজেদের সুবিধার্থে বিলিয়ে যাচ্ছিল সব।সবাই বলাবলি করছিল আর টিকবে না!
আর টিকবে না।

আপনাদের বিরক্ত না করে মূল ঘটনায় আসি।
সুলতান ২য় আবদুল হামিদ খান এর অন্যতম সপ্ন ছিল বড় কিছু করা।সালতানাত এর জন্য,মুসলমান দের জন্য তিনি হাতে নেন বিশাল উদ্যেগ।সিদ্ধান্ত নেন ভিয়েনা,বুদাপেস্ট হয়ে আলবেন,কসোভো লাইন ধরে ইস্তাম্বুল হয়ে ইরান আর সেটা হলে যুক্ত হবে ভারত,পাক ও দক্ষিণে এরাবিয়ান পেনিনসুলা ও উত্তর পূর্বে যুক্ত করবে আফ্রিকা।বিশাল প্রোজেক্ট এর টেন্ডার যে কোম্পানি পাবে সেই কোম্পানি হবে ইতিহাস সেরা কোম্পানী। দেশীয় ইঞ্জিনিয়ার দের এই কাজ দিতে চাইলে পাশা রা নিষেধ করলো কারণ এতে ঝুকি থাকে ভুল হওয়ার।

এদেহম পাশা

যাই হোক টেন্ডার পাওয়া নিয়ে শুরু হলো,ব্রিটিশ, ডাচ,ফ্রেঞ্চ ও জার্মান কোম্পানী গুলোর যুদ্ধ।সুলতান টের পান ব্রিটিশরা এই টেন্ডার নিয়ে মারাত্মক ধোকাবাজি করছে,পাশাদের ঘুষ দেয়া নেয়া চলছে।তিনি তারপরও ব্রিটিশ দের এই কাজ দিলেন যাতে ব্রিটিশরা আপাতত যুদ্ধ না বাধায় আর কিছুটা শান্ত থাকে।কিন্তু এখানে সুলতানের আরেকটি অভিসন্ধি ছিল যা ছিল মিসর অভিযান নিয়ে ভাবনা।আর মিসর হয়ে যদি ব্রিটিশরা স্থলপথে আক্রমণ করে তাহলে ফিলিস্তিন এর দক্ষিণে আকাবা লাইন ধরে রেললাইনে করে অস্ত্র সরঞ্জাম পাঠাবে অটোমানরা।

ব্রিটিশরা সেটা জানতো না সেটা করার কথা ছিল দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারদের।কিন্তু সুলতান এর রাজনৈতিক জ্ঞানহীন এক জনসংযোগ মন্ত্রী + লে.জেনারেল সমমান একজন পাশা,, যিনি প্লেভেন যুদ্ধে ঘোড়সওয়ার রেজিমেন্ট এর প্রধান কমান্ডার ছিলেন,তিনি ভুল করে ফাঁস করে দেন।দোষ তার ছিল না,তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার লর্ড কনরাড অন্য এক পাশার নিকট জানতে পারেন আকাবা লাইনের কথা। লর্ড কনরাড সাফ জানিয়ে দেন।আকাবা লাইন এ কাজ করলে তারা রেললাইন বানাতে তো দিবেই না উলটো যুদ্ধ উসকে দিবে।নিরুপায় হলেও সুলতান অনড়! কাজটা হাতে পায় জার্মান কোম্পানী।
পশ্চিমা-রুশ ইন্ধনে অটোমানদের হাত থেকে স্বাধীন হয়ে যাচ্ছিল খৃস্টান অঞ্চলগুলো।আর অন্যান্য প্রদেশগুলো যুদ্ধে হারাচ্ছিল অটোমানরা।মূল ঘটনার শুরুর এখানেই

মেহমেদ ফরিদ পাশা

সময়টা ১৮৯৬ এর শেষভাগ
ক্রিট অঞ্চল বা সমুদ্রবেষ্টিত এই ভূমিতে মুসলিম – খৃস্টান জনগণ বাস করছিল শান্তিতে।কোনো এক অসভ্য মূলত ব্রিটিশ গুপ্তচর আগুন ধরিয়ে দেয় গীর্জায় কিছুদিন সংঘর্ষে দাঙ্গায় রুপ নেয় পরিস্থিতি,, গ্রীক দের সাথে ধুয়ো তুলে স্বাধীনতার ডাক দেয় ক্রিট অধিবাসীরা সুলতান মেনে না নিলে গ্রীস যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।সুলতান বুঝতে পেরেছিলেন যে যুদ্ধ ছাড়া ২য় কোন রাস্তা খোলা নেই।কিন্তু শায়খুল ইসলাম শান্তির ফতোয়া দেন ১৮ এপ্রিল রাতে। গ্রীস থ্রেস মেসিডোনিয়ান সীমান্তে আঘাত হানে।খবর পেয়ে শায়খুল ইসলাম ফতোয়া পরিবর্তন করে।১৯ এপ্রিল ১৮৯৭ যুদ্ধের অনুমতি দেন, ততক্ষণ এ সুলতান অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন।
ফিল্ড মার্শাল এদেহম পাশা হন সেনাপ্রধান,
গাজি রামি পাশা হন যুদ্ধের এডমিরাল।
গ্রীক আর্মি ৩ টি ডিভিশন তৈরী করে,
যার দুটি থ্রেস সীমান্তে মেসিডোনিয়ার দক্ষিণ এ ও একটি আরর্তা ও এপিরাস এ।প্রিন্স কন্সটান্টাইন নিজেই কমান্ডার ইন চীফ হন

প্রিন্স কন্সটাইন্টাইন

গ্রিক দলে ছিল ৮০ হাজার সেনা,যার ৪৫ হাজার সেনাই নিযুক্ত হয় মেসেডোনিয়া সীমান্তে ৫০০ ক্যাভালারি, ১৩৬ টি বন্দুক,
অটোমান পক্ষে ১লাখ ২০ হাজার সেনা
১০০০ ক্যাভালারি সহ ২০০ বন্দুক।
মজার ব্যাপার হলো যুদ্ধ চলাকালে ক্রিট অঞ্চল ঘিরে রাখে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ,তলার গোমর ফুটো হওয়ার মত আরকি।তবে তাদের জাহাজ ইজমির যেতে পারেনি, পথেই দু তিনটা তলিয়ে যায় অটোমান নেভীর আঘাতে।স্থলপথে গ্রীক দের ১৩০০ আর অটোমানদের ক্ষতি হয় ৮০০ জন সেনা,
৩০০০ এর মত আহত হয় সব মিলিয়ে,,
২০ মে ১৮৯৭ প্রিন্স কন্সটান্টাইন প্রায় ৭০হাজার সেনা নিয়ে যুদ্ধবিরতি চান ও আত্মসমর্পণ করেন।

যুদ্ধরত অটোমান সেনাদল

মূল ঘটনা বাকি আছে এখনো।
বলা হয়ে থাকে কূটনৈতিক ভাবে ব্রিটেন-গ্রীক জয়ী হয়।কারণ ক্রিট অটোনোমাস বা নিরপেক্ষ অঞ্চল হয়।অটো,গ্রীক,ব্রিট সবাই ব্যবহার করবে তবে সুলতান থ্রেস ফেরত দিলেও ভোলোস হারবার নামে একটি ছোটো বন্দর রেখে দেন।যা গ্রীক ও ব্রিটেনের চিন্তার মহা কারণ ছিল।ব্রিটেন সেখানে গোপন ঘাটি বানায়,যাতে ভোলোস থেকে খুব সহজে ইজমির ও ইস্তাম্বুল এ হামলা করে ফিরে আসতে পারে রয়্যাল নেভী।

বলে রাখা ভালো,যুদ্ধের আগেই ভ্যাটিকান এ এই ক্রিট এর ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনায় বসে পোপ,ব্রিট,ফ্রেঞ্চ,রুশ প্রতিনিধি রা।সেখানেই ভোলোসকে গোপন নৌঘাটি বানানোর সিদ্ধান্ত হয়।সুলতান এর এক ডিপ আন্ডারকাভার এজেন্ট, যে ছিল একজন কার্ডিনাল।সে গোপনে সুলতানকে জানান, পাশাপাশি সুলতান ক্রিট অঞ্চলকে অটোনোমাস করে আকাবা লাইন করার অনুমতি নেন।

বলে রাখা ভালো, শেষ অবধি রেলপথ হয়েছিল।তবে,তা সুলতানের সপ্ন কে ছুতে পারেনি। রেল লাইনের মূল লক্ষ্যই ছিল তিন মহাদেশের সমস্ত মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র গুলোকে সরাসরি এক করা। যাতে যুদ্ধের সময় কম সময়ে অস্ত্র সরবরাহ ও জনগণ কে উদ্ধার করা যায়। ভিয়েনা হয়ে যা যুক্ত হবে জার্মানীর সাথে পথে পরবে,বুদাপেস্ট,আলবেন,রুমেলিয়া বা মেসিডোনিয়া, সোফিয়া হয়ে রাজধানী ইস্তাম্বুল এরপর তা মধ্যপ্রাচ্য ইরান হয়ে ভারত বর্ষ। আর আফ্রিকার পথে ফিলিস্তিন এ অস্ত্র সরবরাহে দীর্ঘ আকাবা লাইন যেখানে সঠিক সময়ে অস্ত্র পৌছানো মানে ব্রিটিশ দের কলোনিয়াল মিসর থেকে পিছু হটা। যাই হোক, আকাবা লাইন শেষ অবধি বড় সাফল্য ছিল সুলতান এর জন্য। সুলতান ভেবেছিলেন তিনি হয়ত অন্তত বাচাতে পারবেন মুসলিম দের পবিত্র ভূমি গুলোকে। যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল জেরুজালেম।

বলকানে সোফিয়া ও রুমেলিতে গিয়ে শেষ হয় ।সপ্ন মধ্য প্রাচ্য এ হজ যাত্রী ও জনগণ দের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়

লেখক : হাসিব আল রাজ

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: