চার সাগরের মিলনমেলা কার না ভালো লাগে!!! আর গোধূলির প্রেমে নীল সন্ধার জন্য জন্ম থেকে জন্মান্তর ছুটে যায় মানুষ এশিয়া ও ইউরোপ এর সন্ধিস্থল বসফরাসে মুসলিম দের পতাকা উড়ানোর কথা বলছিলাম। যা কনস্টান্টিনোপল বলেই পরিচিত ছিল ২৮ মে ১৪৫৩ অবধি। কোন সাম্রাজ্য এর রাজধানী হওয়ার জন্য এর যোগ্যতা ছিল অপরিসীম। উভয় দিক থেকে এশিয়া ও ইউরোপ এর ভূমি শাসন করার জন্য উপযুক্ত যায়গা।তবে শাসকের নৌবহর হওয়া যাই শক্তিশালী। পাশাপাশি যা ছিল খৃস্টান দের ৩য় পবিত্রভূমি। যার ছিল শক্তিশালী দেয়াল বিশিষ্ট সুরক্ষা বর্ম। পোপ মজা করে বলতো সৃষ্টিকর্তাও একে অতিক্রম করতে পারবে না। ১৪ মাইলের দুর্ভেদ্য দেয়াল। মজার ব্যাপার হলো মাত্র ৫৩ দিনে যার পতন হয়। শুরু হয় ইস্তাম্বুল নামে অটোমান সাম্রাজ্য এর অংশ হয়ে। হযরত আঈউব আল আনসারি (রা) এর পর বহুবার চেষ্টা হয়েছে, কখনো হয়ত থামতে হয়েছে ঝামেলা,বহিঃশত্রুর ধাক্কা,ভৌগলিক অসুবিধা, প্রাপ্ত অর্থ ও অস্ত্র না থাকা, ইত্যাদি কারনে কখনও জেতা হ হয় নি।

১৪৫০ এর সময়টা ভালো যায়নি সুলতান ২য় মুরাদ এর। আলবেনিয়ার ঝামেলা টা অমীমাংসিত ই থেকে গেল সুযোগ পেলেই বসনিয়া ও হাংগেরী থেকে সেনা এনে বিদ্রোহ ঘটিয়ে বসবে ইসলামে নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া ইস্কান্তবেগ ওরফে ইস্কান্দার পাশা । অস্ট্র-হাংগেরিয়ান সেনারা রুখে দিয়েছে মুরাদের বাহিনীকে। এমনিতে রাষ্ট্র এর ঝামেলা,শাসন কাজ কিছুই ভালো লাগতো না মুরাদের। ১ বার ক্ষমতা দিয়েছিলেন পুত্র মেহমেদ কে। রাষ্ট্র এর হাল হকিকত মাথায় তুলেছিল পুত্র। বাধ্য হয়ে মুরাদ আবার ক্ষমতায় আসে। তবে এবার আর তাকে অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৪৪৬ এ ২য় বার ক্ষমতায় বসার পর ১৪৫১ তে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন তিনি। ম্যাগনেসিয়া তে তখন পড়াশোনা ও ভূগোল নিয়ে ব্যস্ত শাহজাদা মেহমেদ ।মাঝে মাঝেই ভাবেন পিতার মৃত্যু হলে তিনি কি পারবেন যোগ্য নেতা হতে!!! তবে ইস্তাম্বুল ছাড়া সাম্রাজ্য অসম্পূর্ণ। সারাক্ষণ ভূগোলের ৪ টা দিক বাদ দিয়ে এক বসফরাসের আশ পাশ নিয়ে জেগে থাকতেন ।খবরটা এলো কোনো সতর্কতা না শুনিয়ে। একজন হাটুগেড়ে তলোয়ার উচিয়ে দিল আরেকজন এর হাতে চিঠি। রাজধানী এবার সত্যিই যেতে হবে।

শুরু হচ্ছে সুলতান ২য় মেহমেদ এর আগুন ঝড়ানো শুরু ইউরোপ কাপানো মূহুর্ত। অর্ভিষেক এর পর ই পায়তারা খুজছিলেন যুদ্ধের।বলে রাখা ভালো, ইস্তাম্বুল তখন ছিল করদ রাজ্য অটোমান দের।তবে পুরোপুরি দখলে আসেনি। তাই সেখানেও অটোমান দের যাতায়ত ছিল। সুলতান মেহমেদ কে বোকা ভেবেছিল ল্যাটিন গির্জার গ্রীক রা। সম্রাট এর আতাতে গ্রিক দ্রব্যের দাম বাড়ায় ব্যাসায়ীরা। রেগে গিয়ে সুলতান ও কর বৃদ্ধি করে।

সুলতান মেহমেদ ২য়

সবচেয়ে বেশি আরোপিত হয় ইস্তাম্বুল এর ব্যবসায়ী দের উপর। তা না দিতে চাইলে,সুলতান বাইজেন্টাইনে প্রাসাদ নির্মাণ করে সেনাঘাটি গড়ে তুলেন।যার ফলে প্রণালী পথ এ নজরদারি ও ইস্তাম্বুল অবরোধ সহজ হবে।কিন্তু বাইজেন্টাইন সম্রাট ও অস্ট্র-হাংগেরীয় এবং পোপের চাপ সত্ত্বেও পিছু হটেনি সুলতান বরং বছরখানেক ধরে চলে নির্মাণ কাজ ও অস্থিরতা বিরাজ করে।এদিকে বাইজেন্টাইনে থাকা অটোমান সেনারা কিছু করতে পারে ভেবে সম্রাট চুপ থাকেন।আর তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল দেয়াল।সম্রাট বিভিন্ন উপহার পাঠিয়েও ব্যার্থ হন।প্রাসাদ টি বোগাজ কোসেন ও দূর্গ টি রুমেলি হিসারী নামে অভিহিত।কাজ শেষ হওয়ার পর ১৪৫২ সালের কনকনে ডিসেম্বর এ ৩ দিন ৩ রাত সুলতান ছদ্মবেশ এ ভালো করে ইস্তাম্বুল এর দেয়াল রেকি করেন।এর পর আড্রিয়ানোপল যান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেন।রুমেলী এর উপর ৩ টি কামান বসান যা এখন হুইটজার নামে পরিচিত। নির্দেশ দেন যাতে প্রণালী পার হওয়ার সময় সকল জাহাজ নির্দিষ্ট মোটা অংকের টোল বা ইজারা দেয়।মানে ইচ্ছে করে গুঁতাগুঁতি। তা না হলে জাহাজ ডোবানো হবে।এটা ত গেল, এবার এত পুরু দেয়াল ভাংবে কি করে!! আগেই পরিকল্পনা ছিল। হাংগেরীর দক্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও গোলন্দাজ ব্যবসায়ী কে মোটা অংকে কিনে ফেলেন মেহমেদ তাকে দিয়ে নতুন কামান বানাবেন তিনি যার কয়েকটি হবে পুরো পৃথিবীর শক্তিশালী কামান।যা এর আগে কেউ দেখেনি।

সম্রাট একাদশ কনটাস্টাইন

যার মধ্যে আরবান তৈরী করে ফেললেন শক্তিশালী এর চেয়েও শক্তিশালী ২৭২ কেজি ওজনের বিশাল কামান। যা যে কোন শত্রুর বুকে কাপন ধরাবে।মাত্র ২ বছরে রাত দিন খাটিয়ে ইজমিরে তৈরী করলেন ৮০ টি শক্তি শালী জাহাজ এই ৮০ টির ৬০ টি ছিল এই যুগের ক্রুজারের মত এসব জাহাজে প্রায় শতাধিক কামান, সল্প পাল্লার বারুদের ছোট ছোট রকেট ও কপিকলের সাহায্যে অনেক দূরে গোলা নিক্ষেপ করা যেত। আর ক্যারিয়ার টাইপ ছিল ২০ টি যা দিয়ে সেনা, অস্ত্র,কামান সরবরাহ করা হবে মেহমেদ আগেই বুঝেছিলেন নৌশক্তি ছাড়া বাইজেন্টাইন দের মোকাবেলা করা যাবে না। এর আগে যেসব অভিযান ব্যার্থ হয়েছিল তার সব ই ছিল স্থল আক্রমণ ভিত্তিক নৌশক্তি সেখানে দুর্বল ছিল। ১৪৫২ ও ৫৩ এর পুরো শীত জুড়ে আক্রমণ এর প্রস্তুতি নেয়া হয়।ছদ্মবেশে শহর ঘুরে উভয়পক্ষের মনের অবস্থা পরিলক্ষিত করেন।নিজের সাম্রাজ্য এর সকল জায়গা থেকে থ্রেসে এনে সেনা জড়ো করেন সুলতান মহড়ার জন্য। ফেব্রুয়ারি র শেষভাগ তখন।সব মিলিয়ে ৫০০০০ সেনা মতান্তরে ৮০ হাজার । রাজ্যজুড়ে কারিগর রা তৈরী করতে থাকেন বর্ম, বর্শা, শিরোস্ত্রান,তীর ধনুক, তলোয়ার। এদের মাঝে জেনিচেরি ছিল ১২০০০। যা আমাদের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর মত চৌকস একটি সেনাদল যাতে রয়েছে ৮ টি গোলন্দাজ প্লাটুন, ১০-১৫ টির মত সল্প পাল্লার রকেট বাহি ভারি দল ও সুলতান এর সাথে থাকা একটি পূর্ণ পদাতিক বাহিনী যা সুলতান নিজে নিয়ন্ত্রণ করবেন। ৪০০-৮০০ এর মত একটি গোপন কমান্ডো দল যার নেতৃত্বে থাকবেন উলুবাতলি হাসান এর মত একজন যিনি ইউয়ারোপীয় অঞ্চলের গোয়েন্দাগিরি তদারকি করতেন ও যুদ্ধে শত্রুর ভিত নাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট ও মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। ২৫০ জাহাজ মতান্তরে ৩৫০ টি জাহাজ নিয়ে নৌশক্তি ছিল ৩০০০ এর মত। যেখানে বাইজেন্টাইনের ছিল ১০০০০ সেনা ৭০০০ নৌসেনা ও ১২৫ টি জাহাজ যেখানে ৯০ টি জাহাজ ছিল ক্রুজার ও ডেস্ট্রয়ার এর মত বিদ্ধংসী। সম্রাট এসময় গিওভান্নি নামে জেনোয়ার বিশেষজ্ঞ কে দায়িত্ব দেন শহর রক্ষার প্লান করতে। অস্ত্রের পুনর্বন্টন করা হয়।সম্রাট যুদ্ধ ফান্ড গঠন করেন ইউরোপ থেকে সাহায্য চান। সব জায়গা থেকে কর বৃদ্ধি করেন হঠাৎ। ১৪৫৩ সালে গ্রীক রা দেখলো অটোমান দের নৌশক্তি তাদের তুলনায় ৩ গুণ বেশি। অটোমান দের মন্ত্রীপরিষদ এক বাক্যে ঘোষণা দেয় ইস্তাম্বুল ছাড়া অসম্পূর্ণ সাম্রাজ্য। অবশেষে ২ এপ্রিল ১৪৫৩ সুলতান কন্সটান্টিনোপল দেয়ালের নিকট পৌছান ইউরোপ থেকে আসা সাহায্য বাধা পরছিল আজিয়ান,আড্রিয়ানোপল ও ব্লাক এ দাঁড়িয়ে থাকা অটোমান জাহাজ গুলোর কারণে।

দেয়ালের ভাংগা অংশ

ভূমির পাশের দেয়ালের একটি কেন্দ্রীয় অংশকে বাছাই করে সুলতান নিজের হেড কোয়ার্টার তৈরী করান। সুলতানের অপর পাশে জেনোইস সেনাদের নিয়ে সম্রাট অবস্থান নেন। ধোকা দিতে সম্রাট ভেনেশীয়,ইটালীয় ও অস্ট্র হাংগেরীয় সেনাদের পোষাক পরিয়ে কিছু সেনাকে অবস্থান করান সামনে। যদিও এতে লাভ হয়নি। এর পর শহরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। পরিখার উপর থেকে সেতু সরে যায়।গির্জা তে প্রার্থনা শুরু হয়। সুলতান সম্রাট কে নিজের অধীনে এসে শান্তির প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখান করে সম্রাট। এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ শুরু হয় তুমুল গোলা বর্ষণ ও ঘোড়সওয়ার বাহিনীর আক্রমণ। পিছু হটে সম্রাট এর বাহিনী দরজা বন্ধ করে রক্ষ্ণাত্মক ভংগিতে চলে যান। পালটা আক্রমণ এর চিন্তা বাদ দিয়ে কেবল জবাব দিতে থাকেন আর ইটালী ও হাংগেরী থেকে সাহায্য এর আশা করতে থাকেন। এটা ছিল সেনা উপপ্রধান লুকাস নোটেরাস এর পরিকল্পনা। বিদ্রোহ করা ওরহান চেলেবি ছিল নাইট সেনাদের দায়িত্ব এ। প্রিন্স থিওপলিস পালাইলোগ নৌবাহিনীর দায়িত্ব নিলেও প্রাসাদেই বসে ছিলেন। সেনাপ্রধান গিওভান্নি ও সম্রাট একাদশ কন্সটান্টিন তখনো নিজেদের দেয়াল নিয়ে গর্ব করছিলেন। এক সপ্তাহ আঘাত আনার পর ও দেয়ালে শক্তিশালী ফাটল ধরাতে পারেনি অটোমান রা। সুলতানের মাথায় চিন্তার ছাপ। সমুদ্রেও ব্যার্থ হন সুলতান। সাহায্য আটকে দিলেও একের পর এক জাহাজ ডুবতে থাকে নৌবাহিনীর। ১২ দিনের মাথায় বাইজেন্টাইন নেভী গোল্ডেন হর্ণের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ঠিক তখন উলুবাতলি হাসান ও ইটালিয়ান বংশোদ্ভূত এক মুসলিম গুপ্তচর এক অভিনব মতামত দেয়। প্রথমত ভারী জাহাজ গুলো সেনাদের নিয়ে কৃত্রিম চাকার উপর মূল্যবান শক্তিশালী জাহাজ গুলো কে বসিয়ে শত্রুর চোখ এরিয়ে বসফরাস থেকে গোল্ডেন হর্ণ এ নিয়ে উপুর্যপুরী আক্রমণ ও সেখান থেকে দেয়ালের ভেতরে ও বাইরে আক্রমণ করা যা কিনা বাইজেন্টাইন দের ধারণা তেই ছিল না। আর যেহেতু দেয়াল ভেদ করা সম্ভব হচ্ছে না তাই গোপন সুড়ঙ্গ খুড়ে কমান্ডো দের নিয়ে দেয়ালের ওপারে হামলা করা। কিন্তু চাকা বানাতে সময় লাগবে বিধায় তেল মাখানো কাঠের গুড়িতে ষাড়ের সাহায্যে টেনে নেয়া হয়। এভাবে গ্রিক দের চোখের সামনে গোল্ডেন হর্ণের ভেতরে ৭০ টি জাহাজ ভাসতে শুরু করে।তুমুল আক্রমণ এ পরাজিত হয় নৌবহর। শহরের ভেতর গোলা পরতে থাকে। কিন্তু দেয়াল ভাংগা সম্ভব হচ্ছিল না । আর দুঃখজনক ভাবে সুড়ঙ্গ খোড়ার ব্যাপার টের পায় ওরহান জেলেবি। তারা বারুদে ঠেসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে বিস্ফোরিত হয় সম্রাট এর বিশ্রী হাসির সাথে। একদিনে সুলতান সিপাহী সহ ৪০০ কমান্ডো হারান। সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।এটা অনুমেয়। পশ্চিম থেকে সাহায্য না আসায় সেনারা সম্রাট কে বাইরে গিয়ে আক্রমণ করতে বলে। কিন্তু কার্ডিনাল ইজডোর এতে বাধা দেন। এরপর সুলতান এই অপূরণীয় ক্ষতির জবাবে ২৯ মে ভয়াবহ আক্রমণ এর প্রস্তুতি নেন। ২৯ মে এই আক্রমণ টা হয় একটু আলাদা কমান্ডার উলুবাতলি হাসান,সেনাপ্রধান জাগান পাশা, জেনিচেরি প্রধান সুলেমান ,হামজা বে, সবচেয়ে বেশি ফাটল ধরা অংশে হামলার পরিকল্পনা করে ও আনাতোলিয়ার সেনাবাহিনী কে সামনে এনে দু পাশে জেনিচেরী তার দু পাশে গোলন্দাজ,তার দু পাশে অতিরিক্ত পদাতিক সিপাহী ও মাঝে সুলতানের সাথে ঘোড়সওয়ার বাহিনী কে সাজান। যা ছিল পুরো অর্ধচন্দ্রাক্তি স্টাইল। বলে রাখা ভালো এই স্টাইলের উদ্ভাবক অটোমান রা। আজো মুসলিম রা তাদের পরিচয় এ অর্ধেক চাঁদ ব্যবহার করে যা অটোমান দের থেকে এসেছে। ফাটা যে অংশে বেশি আঘাত লেগেছিল সেখান থেক সেনাদের মনযোগ কেড়ে নেয় অটোমান রা । আনাতোলিয়ার সেনাবাহিনী ব্যস্ত রাখে সম্রাটের বাহিনী কে। ফলে ফাটল অংশে আরবানের কামানের গোলা ও অন্যান্য গোলন্দাজ আক্রমণ এ তা ভেংগে পরে। এসময় চরম বিশৃউংখল হয়ে পরে সম্রাটের বাহিনী। ফাটল দিয়ে সেনা ঢুকতে থাকে। কমান্ডোরা সবার আগে প্রবেশ করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেংগে দেয়। আর উত্তর দিকের পেছনের দরজায় ওত পেতে থাকা কমান্ডো দের আরেকটি ছোটদল ভেতরে প্রবেশ করে সেনাদের বিভ্রান্ত করে। এসময় গিওভান্নি মারাত্মক ভাবে আহত হন। সেনাদের মনোবল তখন ভেংগে পরে। এসময় জেনিচেরি রা ফটকে উঠে যায় ও দখল করে নেয়। উলুবাতলি হাসান মূল দেয়ালে পতাকা পুতে দেন। এবং শহীদ হন। পদানত হয় ইস্তাম্বুল। দয়ালু মন নিয়ে সুলতান রাজধানী তৈরী করেন । তবে অর্জন এর চেয়ে রক্ষা করা কঠিন ।শহর জয় করে ৬ মাস ও তিনি শান্তিতে বসতে পারেননি। জন হুনিয়াডির পরে আলবেনিয়াতে ইস্কান্দার বেগ,মোলদোভিয়াতে তৃতীয় স্টেফেন,ট্রাবজনের দ্বিতিয় ভ্লাদিকির,গ্রীসের মোরিভিয়ার রানী,ওয়ালাশিয়া ট্রানসেলভেনিয়াতে তৃতীয় ভ্লাদ দ্যা টেম্পলার,ইরানে শিয়া উজুন হাসান, আনাতোলিযাতে দুলকাদির,রামযানিয়াদরা উৎপাত শুরু করছিলো,এসবই দমন করেন ফাতিহ সুলতান মেহমেদ,আর ইস্তাম্বুল বিজয়ের পরে,মোটেও বসে ছিলেনা ইস্কান্দার কে সবার আগে শায়েস্তার পর, গ্রীসের র রাণীর বিরুদ্ধ অগ্রসর হন এরপর এগিয়ে আসবে সাফাভিদের উজুন হাসান ও মলদোভিয়া পাশাপাশি সার্বিয়ার সম্মিলিত শক্তি। তবে তা বলব পরবর্তী পর্বে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: